অবশেষে ফাঁস হয়ে গেলো কেন রাজ-শুভশ্রীর বিয়েতে শ্রাবন্তী যাননি?

| - By

অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও বেশি এক্সপ্লোর করাই এখন তাঁর কাছে একমাত্র লক্ষ্য। ‘ওবেলা’র মুখোমুখি শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। অতীত নয়, বর্তমানেই বাঁচতে চান নায়িকা। অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও বেশি এক্সপ্লোর করাই এখন তাঁর কাছে একমাত্র লক্ষ্য। ‘ওবেলা’র মুখোমুখি শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।

দীর্ঘদিন পর টিপিক্যাল বাণিজ্যিক ছবি ছেড়ে, অন্য ধরনের ছবিতে অভিনয় করলেন…!
(হাসি) একেবারেই তাই! সবচেয়ে বড় কথা, প্রথমবার সৃজিতদা’র (মুখোপাধ্যায়, পরিচালক) সঙ্গে কাজ করলাম। আগেও অনেকবার কাজের কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজটা আর করা হয়ে ওঠেনি। কখনও ডেট’এর কারণে, তো কখনও অন্য কোনও সমস্যা…। মোদ্দা কথা, তখন ভাগ্যে ছিল না! ‘উমা’র সময় সৃজিতদাই আমাকে ফোন করে বলেছিল, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র রয়েছে। একবার এসে দেখা কর’।

‘উমা’র গল্পটা তো বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত?
কথাটা সত্যি! ঘটনাটা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তাই প্রজেক্টটায় এককথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। ‘উমা’ এমন একটা ছবি, যেখানে প্রতিটা চরিত্রেরই গুরুত্ব রয়েছে। ছবিতে আমি উমার (সারা) মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছি। বললে বিশ্বাস করবেন না, চিত্রনাট্যটা শুনতে শুনতেই আমি কেঁদে ফেলেছিলাম! বার বার মনে হচ্ছিল, চিত্রনাট্যের দৃশ্যগুলো কোনও একজন মানুষের জীবনের বাস্তব ঘটনা!

সারা’র সঙ্গে ফ্রেম শেয়ার করার অভিজ্ঞতা কেমন?
শি ইজ আ ডার্লিং টু মি! ওর চোখ দু’টো দেখলেই মন ভরে যায়। অসম্ভব ট্যালেন্টেড একটা মেয়ে! ওর বাবা (যিশু সেনগুপ্ত) এত ভাল একজন অভিনেতা। ওর মা-ও একটা সময়ে চুটিয়ে কাজ করতেন। তাই ওর মধ্যে ট্যালেন্ট থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। এই বয়সেও সারার মধ্যে আভিজাত্যের ছাপ রয়েছে! ওর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যেত। আমি ওর চেয়েও ছোট বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। চেষ্টা করলে, সারা ভবিষ্যতে খুব ভাল অভিনেতা হয়ে উঠতে পারবে।

অনেকে বলেন— আপনার যা অভিনয় ক্ষমতা, তাতে আপনার আরও বেশি অন্যধারার ছবি করা উচিত…!
নিশ্চয়ই করব। তবে এটাও ঠিক যে, আজ যে আমি শ্রাবন্তী হতে পেরেছি— সেটা কিন্তু টিপিক্যাল বাণিজ্যিক ছবিগুলোর জন্যই। তবে এখন নিজেকে আরও এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করছি। পরিচালকেরাও হয়তো মনে করছেন, আমি অভিনয়টা করতে পারি। তাই তাঁরাও আমাকে ভিন্ন স্বাদের ছবিগুলোয় কাস্ট করার কথা ভাবছেন! আবার নাচ-গানটাও আমি বেশ ভালই পারি (হাসি)! সব ধরনের প্রজেক্টে কাজ করতে চাই। কৌশিকদা’র (গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে অনেকদিন আগে একটা টেলিফিল্ম করেছিলাম। তারপর আর কাজ করা হয়নি। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে চাই। মৈনাকদা (ভৌমিক), গৌতম ঘোষ— এঁদের সঙ্গেও কাজ করতে চাই। দেখা যাক! পিকচার অভি বাকি হ্যায় (হাসি)। আমি একজন অভিনেত্রী। নায়িকাটা পরে। সেই আট বছর বয়স থেকে অভিনয় করছি বস্‌ (হাসি)!

শোনা যাচ্ছে, ‘উমা’য় নাকি আপনি আপনার কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সটা দিয়েছেন?
নিজের মতো করে চেষ্টাটা অন্তত করেছি! ছবিটা এমনই যে, দুঃখের দৃশ্যগুলোয় আমাদের গ্লিসারিনও লাগেনি। এমনিই চোখে জল চলে এসেছে! ছোট্ট উমা, যে দুনিয়ার কিছুই সেভাবে দেখেনি, তার যদি ওই রকম একটা কঠিন রোগ হয়, তাহলে তো যে কারও চোখেই জল আসবে!

গত বছর আপনার একটাই ছবি মুক্তি পেয়েছিল। আর এ বছর আপনার ব্যাক-টু-ব্যাক ছবি মুক্তির অপেক্ষায়!
(একটু থেমে) সময় বদলায়! বছরে একটা ছবি করেছি বলে কোনও অনুশোচনা হয় না। একটা ছবি করেছি বলে দর্শক আমাকে ভুলেও যাননি। ওঁদের আশীর্বাদেই এ বছর আমার এতগুলো ছবি মুক্তি পাচ্ছে। কখনও খারাপ সময় এলে, আমি নিঃশব্দে অপেক্ষা করি! আর পুরোটাই সময়ের উপর ছেড়ে দিই। চিন্তাভাবনায় পজিটিভিটি বজায় রাখার চেষ্টা করি।

খারাপ সময়ে অবসাদ আসে না?
কেন আসবে না? আমিও তো মানুষ! খারাপ সময়ে পজিটিভ মানসিকতার মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করি। ওঁদের সঙ্গে কথা বললে পজিটিভ ভাইব পাই! জীবন একটাই। তাই যে ভাবেই হোক, ভাল থাকতেই হবে!

শ্যুটিং, স্টেজ শো’য়ের কাজ, রিয়্যালিটি শো’য়ের বিচারকের দায়িত্ব— এত কিছু সামলে ঝিনুককে সময় দেন কীভাবে?
ও তো আমার চেয়েও ব্যস্ত (হাসি)! আসলে কাজ না থাকলে, আমি বাড়ি থেকে বেরোই না। কয়েকদিন আগে শ্যুটিংয়ে লন্ডন গিয়েছিলাম। ঝিনুকও আমার সঙ্গে গিয়েছিল। কাজের বাইরে যতটা সময় পাই, ওকেই দিই। ও জানে যে, ওর মাকে কাজ করতেই হবে। তাই ও আমাকে সাপোর্টও করে!

সাধারণত, বাবা-মা সন্তানের মেরুদণ্ডের দায়িত্ব পালন করেন। অনেকে বলেন, আপনার জীবনের মেরুদণ্ড নাকি ঝিনুক…।
ও তো বটেই, আমার বাবা-মা’ও আমার ব্যাকবোন! বাবা, মা, দিদি, ঝিনুক আছে বলেই, কেরিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারছি। ঝিনুক
আমার ভাইয়ের মতো জানেন তো? ও আবার আমাকে আর আমার দিদিকে শাসন করে! ঝিনুক আমার চেয়ে মাত্র ১৫-১৬ বছরের ছোট। আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। জানেন, এখন জীবনে ব্যালান্স করে কীভাবে চলতে হয় শিখে গিয়েছি। বাবা শিখিয়েছিলেন, জীবনে যতই সাফল্য আসুক, শিকড়কে কখনও ভুলতে নেই! কথাটা মেনে চলার চেষ্টা করি। তাই সচরাচর কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি না।

যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কিন্তু অনেক কথা হয়…!
খুব হাসি পায় কথাগুলো শুনে। শুধু যিশুদা কেন, নীলাঞ্জনাদি’র (যিশুর স্ত্রী) সঙ্গেও আমার দারুণ বন্ধুত্ব।

শোনা যায়, ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার বিরুদ্ধে নাকি ‘কাঠি’ করার লোকের অভাব নেই?
কেউ কাঠি করলেও তো আমি বুঝতে পারি না (হাসি)! ওসব নিয়ে মাথাও ঘামাই না।
এত বছর তো ইন্ডাস্ট্রিতে হয়ে গেল। কী হবে ওসব করে?

সম্পর্কে ভাঙন ধরলেও, আপনাকে সেভাবে প্রকাশ্যে কখনও মন্তব্য করতে শোনা যায়নি…।
এই বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না। ‘উমা’ নিয়ে কথা বলি প্লিজ? সম্পর্ক নিয়ে কথা বাড়িয়ে কোনও লাভ নেই। যে সম্পর্কগুলো এই মুহূর্তে জীবনে রয়েছে, সেগুলোই থাকুক। তাহলেই হবে!

আপনার নাকি অসম্ভব মনের জোর?
মনের জোর তো রাখতেই হবে। ওটাই তো আসল! জীবন একটাই। সো আই উড হ্যাভ টু সারভাইভ! একেবারেই কি ভেঙে পড়ি না? পড়ি তো! কিন্তু একদম কাছের মানুষগুলো ছাড়া আর কাউকে বুঝতে দিই না। একটাই কথা বিশ্বাস করি, যে এগিয়ে যেতে হবে! আর আমি তো একা নই, আমার ছেলে রয়েছে। আমি যদি ভেঙে পড়ি, তাহলে ঝিনুকও ভেঙে পড়বে। তাই আমাকে শক্ত হতেই হয়!

অনেকে বলেন, আপনি একটু বেশি আবেগপ্রবণ বলেই নাকি সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে বার বার ভুল সিদ্ধান্ত নেন?
(কিঞ্চিৎ উত্তেজিত) আবার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন!

বেশ! রাজ চক্রবর্তী এবং শুভশ্রীর সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বের কথা সকলেরই জানা। গত শুক্রবার যুগলের বিয়ের অনুষ্ঠানে আপনি অনুপস্থিত থাকলেন কেন?
শুক্রবার আমার একটা শো ছিল। অনেক আগে থেকেই কথা দিয়ে রেখেছিলাম। তাই যেতে পারিনি। খুব তাড়াতাড়ি ওদের সঙ্গে দেখা করে আসব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওদের বিয়ের ছবিগুলো দেখছিলাম। দারুণ লাগছিল ওদের। একেবারে রাজা-রানি যেন!




Leave a reply